ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে চাইলে, ভালোবেসে ফেলুন

আমরা জানি কোনটা আমাদের জন্য সঠিক আর  ভালো। কিন্তু অনেক সময় মনে হয় আমরা সেটা করার   মত ইচ্ছাশক্তি রাখি না।

যদি সত্যিই আপনার ইচ্ছাশক্তি নাই থাকত, তাহলে তো আপনি এখানে এসে কি করে ইচ্ছাশক্তি বাড়ান যায় সেটা পড়তে আসতেন না। আপনি যে কোনো ভাবনাকে কাজে পরিণত  করেন, সেটাই প্রমাণ করে আপনার কিছু  ইচ্ছাশক্তি আছে। আপনার মনে একটা চিন্তা আসে, “আমি উঠে পাশের ঘরে যাবো”—আপনি সেটা করেন। এটি ইচ্ছাশক্তিরই লক্ষণ। একেবারে ইচ্ছাশক্তিহীন হওয়া অসম্ভব।
কিছু জিনিস না-হওয়ার কারণ হলো—মনের পুরনো অভ্যাস বা প্রলোভন। তখন মনে হয়, “আমার ইচ্ছাশক্তি নেই।” কিন্তু যতক্ষণ ‘ইচ্ছা’  আছে, ততক্ষণ ‘শক্তিও’ আছে।
যখনই আপনি নিজেকে বলেন, “আমার ইচ্ছাশক্তি নেই”, তখনই আপনি নিজের  হাত নিজেই বেঁধে ফেলেন। নিজের কপালে দুর্বলতার সিলমোহর এঁটে দেন।
তার বদলে নিজের সাহসকে জাগিয়ে তুলুন। একটি সংকল্প নিন। বিশ্বাস করুন যে প্রয়োজনের সময় আপনার কাছে সমস্ত শক্তি  আর এনার্জি উপস্থিত থাকে।
ধরুন কেউ আপনাকে বলল, “যদি তুমি টানা ৩০ দিন প্রাণায়াম কর, তোমাকে  ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে”—তাহলে আপনি একদিনও বাদ দেবেন না। ঘুম বা খাবার বাদ দিতে পারেন, কিন্তু প্রাণায়াম  নয়। লোভ মানুষকে সেই শক্তি এনে দিতে পারে। একইভাবে ভয়ও পারে—যদি বলা হয়, প্রণায়াম না করলে তোমার অসুখ  হবে, তাহলে আপনি মিস করবেন না।

ভালোবাসা, ভয় এবং লোভ – এই তিনটি ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

দশ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন

ধরে নিন কেউ বলল, “যদি তুমি এক মাস ধূমপান না করো, তাহলে তোমাকে ১ কোটি ডলার/ইউরো দেওয়া হবে।”

আপনি বলবেন, “কেন শুধু ৩০ দিন? কিছু মাসে ৩০ দিন, কিছুতে  ৩১ দিন, ফেব্রুয়ারিতে আবার কম! নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি ৩৫ দিন ধূমপান করব না।”

যার মধ্যে না থাকে অহঙ্কার, না ভালোবাসা, না ভক্তি, না লোভ – তার ইচ্ছাশক্তিও খুব কম থাকে।

– গুরুদেব শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর

যখন আপনি কোনো কিছুকে অভ্যাসের চেয়ে  বেশি মূল্য দেন এবং জানেন যে সেই ফল আপনি পাবেন, তখন অভ্যাসটি নিজে থেকেই পড়ে যায়। AIDS-এর ভয় যেমন সমাজে উচ্ছৃঙ্খলতা কমিয়েছে। তেমনি কোনো উচ্চতর উদ্দেশ্যের প্রতি  প্রতিশ্রুতি ছোট ছোট আকর্ষণকে দূর করতে  পারে।
কোনটা ভাল , কি করা উচিত সেটা শুধু বুদ্ধিগতভাবে জানলেই হয় না।শুধু বুদ্ধি দিয়ে জানলে  হেলাফেলা করা, আর নিজের আরামদায়ক জায়গাতেই থেকে যাওয়ার প্রবনতা এসে যায়। তখনই ইচ্ছাশক্তি কমে যায়। নিজের সাহস বাড়ান বা মনকে এমন কিছুতে  সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করুন যা আপনি  ভালোবাসেন। কোন একটি লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠাবান  হওয়া, কিম্বা ভয়  অথবা লোভ – এই সবই ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
অহংকারী মানুষের মধ্যে এক ধরনের  বীরত্ববোধ থাকে। তাদেরকে অঙ্গীকার করানো, বা অলসতা  থেকে বের করে আনা সহজ। যাদের অহং নেই, তাদের মধ্যে প্রচুর  ভালোবাসা ও সমর্পণ থাকে—এদের ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলা সহজ। কিন্তু যাদের মধ্যে না অহং, না ভালোবাসা, না  ভক্তি, না লোভ – এই চারটির কোনোটাই নেই – তাদের ইচ্ছাশক্তি খুব কম থাকে।
তাই হয় লোভী বা ভীত হতে হবে, নয়তো ভালোবাসা ও সমর্পণ বাড়াতে হবে। সত্য জ্ঞান অর্জন করে আপনার ভেতরের শৌর্য বাড়াতে পারেন।

যখন আলস্য অপেক্ষা করতে পারে

অলসতাই আপনাকে মনে করায় যে আপনার  ইচ্ছাশক্তি নেই। ধরুন, আপনি ঠিক করলেন – কাল সকাল ৬টায় উঠে প্রাণায়াম করবেন। কিন্তু সকালে উঠে নিজেকে বললেন, “আরে, আজ তো অনেক ঠান্ডা। আজ না হয় নাই করলাম, কাল করব বা রাতে করব।” এটা হয় কারণ আপনার শরীর ক্লান্ত, মন ক্লান্ত, আর আপনি ভুল খাবার খেয়েছেন।এইরকম হতে হতে একসময় আপনি বিরক্ত হয়ে সব ছেড়ে উঠে দাঁড়াবেন একটা কিছু করার জন্য।
একদিন আপনি আলস্যকে নিয়ে বিরক্ত হয়ে  যাবেন। কেউ যদি বলে, “আগুন লেগেছে!” – আলস্য মুহূর্তে উড়ে যাবে। অবস্থা জরুরি হলে অলসতা দূর হয়। কিংবা হঠাৎ মনে কোনো গিঁট খুলে যায় – ভালোবাসা উৎসারিত হয় – এবং আলস্য হারিয়ে যায়। আপনি যখন কোনো মানুষ বা কাজের প্রতি  আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন তখন হঠাৎ  এনার্জি বেড়ে যায়।
ভালোবাসা, ভয় বা লোভ – এই তিনের মাধ্যমেই আলস্য জয় করতে  পারা যায়। এই তিনের যেকোনো একটি কম থাকলে কাজ  ফেলে রাখা  শুরু হয়। আর যদি বারবার কাজ ফেলে রাখেন,  একসময়  ভয় এসে যায় – আর ভয় থেকে আপনি কাজ শুরু করেন।
আলস্য দূর করতে ভালোবাসা সবচেয়ে ভালো  উপায়। ধরুন আপনি আপনার ভাই বা ভাইঝিকে  প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে সকালে খুব ভোরে   তাকে এয়ারপোর্ট থেকে তুলে আনবেন। সকালবেলা অলস লাগলেও আপনি উঠে  পড়বেন, দৌড়ে যাবেন তাকে আনতে। আপনি কোনো না কোন ভাবে এনার্জি পেয়েই যাবেন।

    Wait!

    Don't leave without a smile

    Talk to our experts and learn more about Sudarshan Kriya

    Reverse lifestyle diseases | Reduce stress & anxiety | Raise the ‘prana’ (subtle life force) level to be happy | Boost immunity

     
    *
    *
    *
    *
    *