চিন্তা ও কথার মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে ভাবের আদানপ্রদান হয় । হৃদয় থেকে হৃদয়ে যোগাযোগ হয় অনুভূতির মাধ্যমে। আত্মা থেকে আত্মায় যোগাযোগ হয় নীরবতায়।
– গুরুদেব শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর
আমরা জন্মের প্রথম শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাববিনিময় শুরু করি। আমাদের প্রথম কান্না হলো আমাদের মা ও পৃথিবীকে জানানো— আমরা এসেছি। শেষ শ্বাস পর্যন্ত ভাববিনিময় চলতেই থাকে। অথচ ভালো কধোকপথন শুধু কিছু শব্দ নয়— এটি একটি শিল্প।গভীর ভাববিনিময়ে কথার বাইরেও আরও গভীর মাত্রা থাকে। পরস্পরের সঙ্গে আন্তরিকভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা একটি মূল্যবান দক্ষতা। সংবেদনশীল এবং বিচক্ষণ,এই দুইই হওয়া জরুরি।
দুজনের মধ্যে ভাবের বিনিময় হয় সংলাপে, একতরফা কথায় নয়।
আমরা যার সঙ্গে কথা বলে ভাববিনিময় করছি, তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও সম্মান করতে হবে। যোগাযোগ হলো একই সঙ্গে সংবেদনশীল ও বিচক্ষণ থাকার শিল্প। কিছু মানুষ অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে নিজেদের সংবেদনশীলতাই হারিয়ে ফেলে। তাদের কথাবার্তায় স্বচ্ছতা থাকে না, স্পষ্টতা থাকে না।অনেকসময় তারা অসংলগ্ন কথা বলে।
ভাববিনিময়ের ক্ষেত্রে মানসিক অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! রাগ করে কাউকে সংশোধন করা যায় না। এতে কেবল নিজের শান্তি নষ্ট হয়।
রেগে থাকলে, তুমি ঠিক কথা বললেও কেউ তোমার কথা শুনতে চাইবে না।
– গুরুদেব শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর
যখন মানুষজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষৎ হয়, তখন আমরা সাধারণত যুক্তি ,বুদ্ধি দিয়ে ভাববিনিময় করি, মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে থাকলে আমরা গান গাইতে শুরু করি, হৃদয় থেকে যোগাযোগ করি। মানুষের সঙ্গে থাকলে অনেক সময় আমরা শুধু কথাই বলে যাই— মাথার স্তরেই যোগাযোগ থাকে। কিন্তু প্রকৃতির মাঝে গেলে আপনা থেকেই মনে সুর আসে,আমরাগুনগুন করতে থাকি,হৃদয় থেকে প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় ।আর গুরুর কাছে এলে সব কথা সব প্রশ্ন হারিয়ে যায়।মন একেবারে খালি হয়ে যায়।তখন নীরবতার মাধ্যমে আত্মার সঙ্গে আত্মার সংযোগ স্থাপিত হয়।
ভাব বিনিময়ে সচেতনতার ভূমিকা
মানুষের সঙ্গে দেখা হলে আমরা যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে কথা বলি,মাথার স্তরেই থাকতে চাই, এবং খুব কমই অন্যদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে গান গাই। গান গাইতে আমাদের অহং বাধা দেয়। অনেকেই লোকসমক্ষে গান গাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। যখন আপনি অন্যদের সঙ্গেগলা মিলিয়ে গান করেন, তখন পারস্পরিক যোগাযোগ নেমে আসে হৃদয়ের বা অনুভূতির স্তরে। কেউ কেউ শুধু গান শুনতে স্বস্তি পান। কেউ কেউ একা থাকলে তবেই গান করেন। কেউ কেউ অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ বা মুগ্ধ করার জন্য গান করেন। আবার কেউ কেউ তখনই যোগ দেন যখন সবাই গান গাইছে। এই সব ধরনের গানের পেছনে থাকে অহং।
মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে ভাবের আদানপ্রদানে তুমি কথা বল।
– গুরুদেব শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর
হৃদয় থেকে হৃদয়ে ভাববিনিময়ে – তুমি গান কর।
আর আত্মা থেকে আত্মায় যোগাযোগ – নীরবতার মধ্যে ঘটে।
অহংকারের বাধা ভেদ করতে পারলে ভাববিনিময়ের মধ্যে ফাঁক দূর হয়।
ভজন শব্দটির অর্থ হলো ভাগ করে নেওয়া – আমাদের অস্তিত্বের গভীরতম স্তর থেকে ভাগ করে নেওয়া। ভজন হলো সত্যিকারের ভাগ করে নেওয়া। আপনি যদি মানুষের সঙ্গে গান গাইতে পারেন, তবে অহং ভেঙে যায়। শিশুরা যে কোন মানুষের সঙ্গে গান গাইতে পারে কারণ তাদের অহং নেই। অপরিচিত কারও সঙ্গে গান গাইতে গেলে আপনাকে অহংমুক্ত হতে হয়। অহং আপনাকে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে গান গাইতে দেয় না। মাথার স্তর অহং-এর জন্য নিরাপদ; হৃদয়ের স্তর অহং ভেঙে দেয়; আর আত্মার স্তর অহংকে সম্পূর্ণভাবে বিলীন করে দেয়। সব ধরনের যোগাযোগের মধ্যে ফাঁক সৃষ্টি হয় অহংকারের কারণে।
ফলপ্রসূ ভাববিনিময় হলো এমন একটি পরিবর্তনশীল দক্ষতা, যা আমাদের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং সামগ্রিক সুস্থতা – সবকিছুতেই গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দ্য আর্ট অব লিভিং, গুরুদেব শ্রীশ্রী রবিশঙ্করের প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা,যা ভাববিনিময়ের কৌশল নিয়ে বহু শিক্ষা ও কর্মশালা প্রদান করে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা রপ্ত করার প্রায়োগিক উপায় শেখায়।
আর্ট অব লিভিং-এর হ্যাপিনেস প্রোগ্রাম, যেখানে শেখানো হয় অনন্য শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রযুক্তি “সুদর্শন ক্রিয়া”, এবং “সহজ সমাধি ধ্যান যোগ” প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি সচেতনতা বৃদ্ধি, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশ, এবং নিজের ও অন্যদের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করার কৌশল শিখতে পারেন।
এই প্রোগ্রামগুলি মনের কথা ঠিকভাবে প্রকাশ করে কিভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় তার প্রতি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এখানে যোগ, ধ্যান, ও শ্বাসব্যায়ামের মতো অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি অন্তর্গত শান্তি খুঁজে পেতে পারেন, শোনার ক্ষমতা বাড়াতে পারেন, এবং হৃদয় থেকে যোগাযোগ করতে শিখতে পারেন।











