কখনো কি এমন দিন আসে, যখন চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে, দাঁত কিড়মিড় করতে মন চায়, আর মুঠো শক্ত করে ধরতে ইচ্ছে হয়? তাহলে মুঠোটা আরও শক্ত করে ধরুন। আসলে পুরো শরীরটাই শক্ত করুন। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পেট ভেতরে টানুন, ভ্রু কুঁচকান, ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরুন। এবার “হা…” শব্দ করে সব ছেড়ে দিন। কোনটা বেশি ভালো লাগল-মুঠো শক্ত করে ধরা, নাকি ছেড়ে দেওয়া?
উপরের এই পদ্ধতিটি সূক্ষ্ম যোগের বহু কৌশলের মধ্যে একটি। এই যোগ রিল্যাক্সেশন কৌশলগুলোর বিশেষত্ব হলো-এগুলো খুব সহজ, অল্প সময়ের এবং সূক্ষ্ম। এমনকি যেদিন আপনার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে না করে, সেদিনও এগুলো করা যায়। সূক্ষ্ম যোগের নিয়মিত অনুশীলনকারী পল্লবী যোশী বলেন, “নিজেকে দ্রুত শান্ত করার এটি অন্যতম দ্রুত উপায়।” আরেকজন সূক্ষ্ম যোগ অনুরাগী বলেন, “এটা যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় করা যায়-বাড়িতে বসে, কর্মস্থলে, বা গাড়ি, বাস এমনকি বিমানে বসেও।”
সূক্ষ্ম যোগ ব্যায়ামের নির্দেশনা
সূক্ষ্ম যোগের জন্য আলাদা সময় বা প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। এই ছোট ছোট ব্যায়ামগুলো সূক্ষ্ম প্রানশক্তির চ্যানেলগুলো খুলে দেয়। মাত্র 7 মিনিটের একটি সেশনেই আপনি স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন।
- কিছু ভুল হলে আমরা প্রায়ই মাথায় হাত দিয়ে বলি, “ওহ ঈশ্বর!” মাথা ম্যাসাজ করলে মন শান্ত হয়, আর মন শান্ত হলে জীবনও মসৃণ হয়।

- বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে ভ্রু 5-6 বার চিমটি কাটুন। জানেন কি, ভ্রু কুঁচকাতে আমাদের 72টি পেশি লাগে, কিন্তু হাসতে লাগে তার অর্ধেক?
- চোখ 5-6 বার ঘড়ির কাঁটা যেদিকে ঘোরে সেইভাবে ঘোরান এবং তারপর উল্টো দিকে ঘোরান।
- চোখ শক্ত করে বন্ধ করুন, তারপর বড় করে খুলুন। এটি 10-15 বার করুন।

- কানকে ধরে 10-15 সেকেন্ড টানুন। বিজ্ঞানীরা বলেন, সচেতনতা (প্রজ্ঞা) বাড়ানোর স্নায়ুগুলো কানের নিচের অংশে থাকে। কখনো কখনো বাবা-মা বা শিক্ষকরা শিশুদের কান টানেন সচেতনতা বাড়াতে ও ভুল কমাতে। আপনি যদি নিজেই কান টানেন, তবে আর কাউকে টানতে হবে না।
- দুই কান ধরে ঘড়ির কাঁটা যে দিকে ঘোরে,সে দিকে ও উল্টো দিকে এমনভাবে ঘোরান, যেন সাইকেল চালাচ্ছেন-কান গরম হওয়া পর্যন্ত।

- তিনটি আঙুল (তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা) দিয়ে চোয়ালের রেখা থেকে থুতনি পর্যন্ত গাল ম্যাসাজ করুন। চাইলে মুখ খোলা রাখতে পারেন। চোয়ালের মাঝখানে কি গিঁটের মতো কিছু অনুভব করলেন? এখানেই স্ট্রেস লুকিয়ে থাকে। দেখুন আপনি কতটা “গিঁট বাঁধা” ছিলেন এবং সব গিঁট মসৃণ করে দিন।
- চোয়াল 8-10 বার খুলুন ও বন্ধ করুন।
- মুখ খুলে চোয়াল ডান-বাম দিকে 8-10 বার নাড়ান।

- গলা ঘোরান। শ্বাস নিতে নিতে মাথা পেছনে নিন, শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে থুতনি বুকে ছোঁয়ান। ঘড়ির কাঁটাযে দিকে ঘোরে সেই দিকে মাথা ঘোরান। উপরের অর্ধবৃত্তে ওঠার সময় শ্বাস নিন এবং নিচের অর্ধবৃত্তে ফিরে আসার সময় শ্বাস ছাড়ুন। এটি 5-6 বার করুন, তারপর উল্টো দিকে।
- হাত 2 মিনিট ঝাঁকান। যদি ভাবেন কত জোরে ঝাঁকাবেন, তবে কুকুর বা বিড়ালকে দেখুন-পানি ঝরাতে তারা যেভাবে শরীর ঝাঁকায়, ঠিক সেভাবেই। তারা সবকিছু ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়। তাই হাত ঝাঁকান, ঝাঁকান, ঝাঁকান-তারপর ধীরে ধীরে থামিয়ে শান্তভাবে স্থির হয়ে বসুন।
এই কৌশলগুলো অনুশীলন করতে করতে আপনি বুঝতে শুরু করবেন, প্রতিটি স্ট্রেচ আপনার মনের ওপর কী প্রভাব ফেলে। প্রতিটি ছোট নড়াচড়া বা ক্রিয়াকলাপ কিছু না কিছু চাপ (স্ট্রেস) মুক্ত করে, আর ধীরে ধীরে আপনি নিজের ভেতরে প্রাণশক্তির চলাচলের প্রক্রিয়া উপলব্ধি করতে পারবেন।
এই জ্ঞান শুধু পড়ে নয়, অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অর্জন করা যায়। আপনি নিজেকে এমন এক অবস্থায় আবিষ্কার করবেন, যেখানে শরীর ও মনের সমন্বয় স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিখুঁত হয়ে ওঠে। তবে এটাও যোগের কেবল একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র।
এখনও অনেক কিছু বাকি। আনন্দের সঙ্গে অনুশীলন করুন!










