আপনি কি জানতে চান কীভাবে ধ্যান করতে হয়? আপনি কি নতুনদের জন্য ধ্যানের পদ্ধতি খুজঁছেন?

হ্যাঁ, ধ্যান  করার সময় মনে গভীর অভিজ্ঞতার আশা থাকা খুব স্বাভাবিক,বিশেষ করে যারা সবে ধ্যান করা শুরু করেছেন, তাদের কাছে। মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং সর্বাঙ্গীন উন্নতি সাধন করার জন্যে   ধ্যানের বিভিন্ন পদ্ধতি  বিশেষ ভাবে কার্যকরী । ধ্যান শুরু করার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় নিশ্চিতরূপে অনুসরণ করলে আপনার ধ্যানের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে। নতুনদের সাধারণ প্রশ্ন হলো— ‘কীভাবে ধ্যান করব?’ এবং ‘বাড়িতে বসে ধ্যান শুরু করব কীভাবে?’

নতুনদের ধ্যান শুরু করতে সাহায্য করার জন্য এখানে আটটি পরামর্শ দেওয়া হল।

  • 1. সুবিধাজনক  একটি সময় বেছে নিন

    ধ্যান হলো বিশ্রাম। যদি আপনি ভাবেন সঠিকভাবে ধ্যান করবেন কীভাবে, তাহলে  সম্পূর্ণরূপে আপনার সুবিধামতো সময়েই করুন। এমন একটি সময় বেছে নিন যখন আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না আর আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বিশ্রামকে উপভোগ করতে পারবেন। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় ধ্যানের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এই সময়গুলোতে পরিবেশ শান্ত থাকে, ফলে ধ্যান করা সহজ হয়ে ওঠে।

    2. নিরিবিলি স্থান বেছে নিন

    যেমন সুবিধাজনক সময় দরকার, তেমনই দরকার একটি শান্ত ও নীরব পরিবেশ যেখানে বসে আপনি মনোযোগ দিয়ে ধ্যান করতে পারেন। এটি আপনার বাড়ির একটি নিরিবিলি ঘর হতে পারে,  হতে পারে প্রকৃতির কোনো সুন্দর শান্ত জায়গা, কিংবা একটি ধ্যান কেন্দ্রও হতে পারে। এইরকম শান্ত জায়গা নতুনদের কাছে ধ্যানকে উপভোগ্য ও আরামদায়ক করে তোলে।

    choose convenient time for meditation

    3. আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন

    আপনার বসবার ভঙ্গি ধ্যানের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে। নিজের জন্য আরামদায়ক একটি আসন বেছে নিন। আপনি চেয়ারে বসতে পারেন বা কুশনসহ মেঝেতে বসতে পারেন।  হাত দুটি কোলে ফেলে রেখে মেরুদণ্ড সোজা করে নিশ্চিন্তভাবে যতটা সম্ভব শিথিল হয়ে স্থিরভাবে বসুন। মেরুদণ্ড সোজা রাখুন,কাঁধ ও গলা ঢিলা রাখুন এবং পুরো ধ্যান প্রক্রিয়ায় চোখ বন্ধ রাখুন।

    sit comfortably in meditation

    মনে রাখবেন: ধ্যান করতে পদ্মাসনে বসতেই হবে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

    4. পেট তুলনামূলকভাবে খালি রাখুন

    বাড়িতে বা অফিসে ধ্যান করার সময় পেট তুলনামূলকভাবে খালি রাখা ভালো। খাবারের পরে ধ্যান করলে ঘুম পেয়ে যেতে পারে। আবার পুরো পেট ভরা অবস্থায় ধ্যান করলে অস্বস্তিও হতে পারে।

    অন্যদিকে, খুব বেশি খিদে পেলে ধ্যান করতে অসুবিধা হবে। পেটে খিদের টান আপনাকে বারবার বিভ্রান্ত করতে পারে, মন বারবার খাবারের কথা ভাবতে পারে! তাই খাবারের অন্তত দুই ঘণ্টা পর ধ্যান করতে বলা হয়।

    keep stomach empty in meditation

    মনে রাখবেন: খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় নিজেকে জোর করে ধ্যান করাতে যাবেন না।

    5. কিছু ওয়ার্ম- আপ দিয়ে শুরু করুন।

    ধ্যান শুরুর আগে ওয়ার্ম- আপ করার উদ্দেশ্য হলো মনকে বর্তমান মহূর্তে আনা এবং শরীর-মনকে ধ্যানের জন্য প্রস্তুত করা। যদি ভাবেন ধ্যান শুরু করবেন কীভাবে, তবে ধ্যানের আগে কয়েকটি হালকা, সূক্ষ্ম যোগব্যায়াম করুন।  সূক্ষ্ম যোগব্যায়াম   করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, আলস্য ও অস্থিরতা দূর হয় এবং শরীর হালকা লাগে। ধ্যান শেখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ,  এটা করলে আপনি দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে বসতে পারবেন।

    6. কয়েকটি গভীর শ্বাস নিন

    ধ্যান শুরু করার আগে গভীর শ্বাস নেওয়া ধ্যান শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস। ধ্যান শুরু করার আগে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস  নিলে  বা নাড়ী শোধন প্রাণায়াম করলে শ্বাসের ছন্দ স্থির হয় এবং মন শান্ত ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পৌঁছায়। শ্বাস ভিতরে নেওয়া ও বাইরে ছাড়ার সময় মনোযোগ দিন। প্রয়োজনে শ্বাসের গণনা করতে পারেন—এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মন অন্যদিকে চলে গেলে ধীরে ধীরে আবার  মনকে শ্বাসের দিকে ফিরিয়ে আনুন।

    7. মুখে মৃদু হাসি রাখুন

    সবসময়ই মুখে একটি মৃদু হাসি রাখুন—এটি বাদ দেওয়ার মতো বিষয় নয়! স্মিত হাসি শরীর মনকে নিশ্চিন্ত করে, মনকে শান্ত রাখে আর ধ্যানের অভিজ্ঞতাকে গভীর  করে তোলে। একবার চেষ্টা করে দেখুন।

    8. ধ্যানের পরে ধীরে ধীরে  সময় নিয়ে  চোখ খুলুন

    ধ্যান শেষ হলে তাড়াহুড়ো করে চোখ খুলবেন না বা  নড়াচড়া করবেন না। প্রথমে নিজের দিকে এবং আশপাশের দিকে সচেতন হন, তারপর ধীরে ধীরে চোখ খুলুন। পরে ধীরে ধীরে শরীর নাড়ুন—এবার আপনি দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত!

    ধ্যান শুরু করা প্রথমে কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু সামান্য চেষ্টায় এবং ধৈর্যে যে কেউ ধ্যান করতে শিখতে পারে। যদি প্রায়ই মনে হয় কীভাবে সঠিকভাবে ধ্যান করবেন, তবে উপরের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন এবং নিজেকে উপহার দিন একটি শান্ত ও কেন্দ্রীভূত মন।

    keep gentle smile in meditation

নতুনদের জন্য তৈরী গুরুদেবের নির্দেশিত ধ্যানটি চেষ্টা করে দেখুন

ধ্যান মানসিক চাপজনিত সমস্যাগুলো কমায়, মনের গভীরে গিয়ে মনকে শান্ত করে এবং শরীর-মনকে পুনরুজ্জীবিত করে। আপনি যদি নিশ্চিত না হন কীভাবে ধ্যানের জগতে প্রবেশ করবেন, তাহলে বিনামূল্যে আমাদের ধ্যানের প্রাথমিক অধিবেশনে যোগ  দিতে পারেন। এখানে আমরা ৬০ মিনিট ধরে যোগ, শ্বাস এবং ধ্যান সম্পর্কে কথা বলি, যা আপনাকে ধ্যান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে।

দ্য আর্ট অফ লিভিং-এর ‘সহজ সমাধি ধ্যান’ একটি বিশেষভাবে নির্মিত প্রোগ্রাম, এটি আপনাকে নিজের গভীরে প্রবেশ করে  আপনার অসীম সম্ভাবনাকে জাগ্রত করতে সাহায্য করে।

বারবার জিজ্ঞাসা করতে গেলে প্রশ্ন

যদি আপনি একেবারে নতুন হন, তবে নতুনদের জন্য ধ্যান প্রায় ১০ মিনিট করলেই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে অভ্যাসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে সময় বাড়াতে পারেন। মনে রাখবেন, ধ্যানের সময়ের দৈর্ঘ্যে র চেয়ে নিয়মিত চর্চা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একদিন অনেকক্ষণ  ধ্যান  করে পরে কয়েকদিন না করার চেয়ে  প্রতিদিন কম সময় হলেও ধ্যান করা ভালো। নিয়মিত ধ্যানের অভ্যাস হয়ে গেলে  তখন আপনি দেখবেন দীর্ঘ সময়ের ধ্যান আরো বেশী উপকারী।
ধ্যান শেষে শরীর শান্ত, স্থির  হয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। নিজের ভেতরে ও চারপাশে পরিতৃপ্তি ও সম্পূর্ণতার অনুভূতি আসে – এটিই লক্ষণ যে আপনি সঠিকভাবে ধ্যান করছেন।
হ্যাঁ, ধ্যান প্রতিদিন করাই যায় এবং এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
ধ্যান হলো কিছু না করার সূক্ষ্ম শিল্প—নিজের স্বাভাবিক আনন্দ, শান্তি ও ভালোবাসাময় প্রকৃত স্বভাবের সাথে যুক্ত হওয়া। ধ্যান শরীর-মনকে গভীর বিশ্রাম দেয়। প্রতিদিন ধ্যান করলে মানসিক চাপ কমে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।
ধ্যান করার সময় চিন্তা আসা খুবই স্বাভাবিক। সব ভাবনাকে আসতে ও যেতে দিন। নিরপেক্ষ দর্শকের মতো শুধু পর্যবেক্ষণ করুন। বিচার বা বিশ্লেষণ করবেন না। নিজেকে মনে করিয়ে দিন— “আমি শরীর নই, মন নই — আমি তার থেকেও বড় কিছু।”
হ্যাঁ! মৃদু বাঁশির সুর বা শক্তিশালী মন্ত্রোচ্চারণের সাথেও ধ্যান করতে পারেন।
উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অনুভব করতে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধ্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শান্ত, গভীর ধ্যান অভিজ্ঞতার জন্য প্রথমে যোগাভ্যাস করা উপযুক্ত। যোগ শরীরের অস্থিরতা দূর করে, মনকে শান্ত করে —  একটি গভীর ধ্যানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে।
গভীর ধ্যানের অভিজ্ঞতার জন্য  প্রথমে  যোগব্যায়াম করা শ্রেয়। যোগাভ্যাস শরীরের অস্থিরতা কমায় এবং মনকে শান্ত করে, ফলে ধ্যান সহজ হয়।
হ্যাঁ, খালি পেটে ধ্যান করা ভালো, কারণ পেট ভরা থাকলে হজম ক্রিয়া ধ্যানকে ব্যাহত করতে পারে।
উপরন্তু, ভরা পেটে ধ্যান করলে ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
দিনে এক থেকে দুইবার ধ্যান করা ভালো।
গভীর ঘুমের জন্য ঘুমানোর আগে ‘যোগ নিদ্রা’ ধ্যান করা বাঞ্ছনীয়।

    Wait!

    Don't leave without a smile

    Talk to our experts and learn more about Sudarshan Kriya

    Reverse lifestyle diseases | Reduce stress & anxiety | Raise the ‘prana’ (subtle life force) level to be happy | Boost immunity

     
    *
    *
    *
    *
    *