কারাবন্দীদের জীবনের রূপান্তর

ট্রমা থেকে মুক্তি প্রদান এবং দক্ষ পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাবন্দীদের পুনর্বাসন।

icon

চ্যালেঞ্জ

কারাবন্দীরা হিংস্রতার চক্রব্যুহে আটকে থাকে।

icon

পরিকল্পনা

প্রমাণিত নির্দিষ্ট পদ্ধতির সাহায্যে মন থেকে রাগ, মানসিক চাপ ও হিংসা কমিয়ে বন্দীদের সম্পূর্ণ রূপান্তরিত করা হয়।

icon

বিস্তার

সারা বিশ্বে 8,00,000+ বন্দী ও কারাকর্মীদের রূপান্তর ঘটেছে, গোটা বিশ্বের 65 টিরও বেশি দেশে এই কার্যক্রম পৌঁছে গেছে।

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

আমরা বিশ্বাস করি যে ব্যক্তি অপরাধ করতে বাধ্য হয়েছে, তাকে পরিবর্তনের একটি সুযোগ দেওয়া উচিত এবং সার্থক জীবন যাপন শুরু করতে সাহায্য করা উচিত। যারা কারাগারে বন্দী এবং যারা অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় কাজ করেন, এই দুই পক্ষেরই জন্যেই “ আর্ট অফ লিভিং প্রিজন প্রোগ্রাম”তৈরী করা হয়েছে।

চাপ কমিয়ে, ট্রমা নিরাময় করে এবং নেতিবাচক আবেগের সাথে মোকাবিলা করার বাস্তব উপায় শিখিয়ে এই প্রক্রিয়া এদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে।

যেসব কারাবন্দীদের ইতিহাস শুধু বারবার হিংস্র আক্রমণাত্মক অপরাধ, তাদের অপরাধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে এই প্রোগ্রাম সাহায্য করে।

বিভিন্ন কারা কর্তৃপক্ষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাথে কাজ করে, আমরা এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে 8,00,000+ বন্দীর জন্য প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছি। বহু বন্দী, যাদের জীবন আমরা ছুঁতে পেরেছি, তারা এখন “আর্ট অব লিভিং” প্রোগ্রামের শিক্ষক হয়ে উঠেছেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

প্রতিটি অপরাধীর ভিতরেই একজন পরিস্থিতির শিকার সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কাঁদছে। তুমি যখন সেই ভুক্তভোগী শিকারকে শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তোল,তখন তার অপরাধের মনোভাব দূর হয়ে যায়

- গুরুদেব শ্রী শ্রী রবি শঙ্কর

চ্যালেঞ্জ

বছরের পর বছর কারাগারে আবদ্ধ থাকার ফলে আত্মমর্যাদার খুব বড় ক্ষতি হয়ে যায় আর মনে ক্রমবর্ধমান রাগ, উদ্বেগ এবং হতাশার জন্ম দেয়। বেশিরভাগ বন্দী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে অপরাধের এই অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার আবর্ত থেকে তারা কখনও বেরোতে পারবে না।

মুক্তির পরে, সমাজ তাদের গ্রহণ করে না বলে বন্দীদের সমাজের মূলধারায় ফিরে আসা কঠিন হয়। ফলে অনেক বন্দী মুক্তির পর আবার অপরাধে ফিরে যায় এবং এই ভাবে একটি দুষ্ট চক্র চলতেই থাকে।

কারাগারের কর্মীদের জন্য বন্দীদের প্রতি মনোভাব পরিবর্তন করা কঠিন, কারণ তারাও কঠোর পরিস্থিতিতে নিয়মিত কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তিতে ভোগেন।

এইভাবে হিংস্র সন্ত্রাসের চক্র চলতেই থাকে।

বিশেষ পরিকল্পনা

আমাদের কারাগার প্রোগ্রামে যা যা আছে:

বন্দীদের মনের আবেগের নিয়ন্ত্রণ:  আমরা আমাদের কারাগার প্রোগ্রামে বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল শেখাই, যা বন্দীদের মনের চাপ, অপরাধবোধ ও রাগের মত নেতিবাচক আবেগের চক্র ভেঙে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। নিয়মিতভাবে এসব প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত বন্দীদের এই আবেগজনিত সমস্যাগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। যখন বন্দীরা রাগ ও চাপ থেকে মুক্ত হয়, তখন তারা মুক্তির পরে বেশিরভাগই অপরাধে ফিরে না গিয়ে সমাজের জন্য কিছু করতে আগ্রহী হয়।

জীবিকায় সহযোগিতা প্রদান: যাতে বন্দীরা মুক্তির পর মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যমে উপার্জন করতে পারে তাই আমরা তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দিই।

কারাগারের কর্মীদের চাপমুক্ত করা: আমরা কারাকর্মী ও আইন প্রয়োগ সম্পর্কিত অন্যান্য কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রোগ্রাম পরিচালনা করি, যা তাদের চাপমুক্ত হতে সাহায্য করে এবং তাদের আরও দক্ষ করে তোলে।

আমাদের প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ:

বন্দীদের মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলা

শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশলের মাধ্যমে

জীবিকা অর্জনের সুযোগ

পেশাগত প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে

কারাকর্মীদের চাপমুক্ত করা

বিশেষভাবে পরিকল্পিত প্রোগ্রামের মাধ্যমে

প্রভাব

8,00,000+

ব্যক্তিদের রূপান্তরের অভিজ্ঞতা লাভ

7,000

সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসা

3.5 লক্ষ

বন্দীদের ভারতের 100টি কারাগারে সৎ পথে আনা

49 টি

ভারতের কারাগারগুলিতে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র

60,000

তিহার জেলে দণ্ডিত উপকৃত

65 টি

বিশ্বব্যাপী দেশে প্রিজন প্রোগ্রাম চালানো হয়