প্রতিদিন যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া , ১২ ঘণ্টার কাজের চাপ, এবং ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত ব্যায়াম করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কিছু মানুষ শারীরিক সমস্যার কারণেও ব্যায়াম করতে পারেন না। কিন্তু তবুও ওজন কমানো সম্ভব। নিচে দেওয়া হলো কীভাবে ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমানো যায়.

স্ট্রেস কমান

বিশ্বাস করুন বা না করুন, আপনার মানসিক চাপ (স্ট্রেস) নিয়ন্ত্রণ করা ওজন নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। স্ট্রেস আমাদের শরীরের “প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম” (যা হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে) কম সক্রিয় করে দেয়। এজন্য একে “রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট সিস্টেম”ও বলা হয়। স্ট্রেস অনেক সময় অতিরিক্ত খাওয়ার (বিঞ্জ ইটিং) কারণ হয়, যা ওজন বাড়ায়। স্ট্রেস কমাতে কিছু অভ্যাস.

  • সুদর্শন ক্রিয়া অনুশীলন করুন: এটি একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, যা মাত্র ২০ মিনিটে করা যায় এবং স্ট্রেস, উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন মেডিটেশন করুন: সুদর্শন ক্রিয়ার পরে ধ্যান করুন এবং দিনের মাঝেও ছোট ছোট ধ্যানের বিরতি নিন। এতে মন ও শরীর বিশ্রাম পায়।
  • ভালো ঘুমান: প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম স্ট্রেস কমায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
  • নিজেকে ভালোবাসুন: নিজের প্রতি ভালোবাসা রাখুন। আপনার ওজনই আপনার পরিচয় নয়।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন

ওজন কমাতে কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলা জরুরি নয়, কারণ তা সাধারণত অল্প সময়ের জন্য কার্যকর। পরে আবার আগের মতো খাওয়া শুরু করলে ওজন বেড়ে যায়। বরং নিচের অভ্যাসগুলো অনুসরণ করুন.

  • ফাইবারযুক্ত খাবার খান: যেমন—গোটা শস্য, ডাল, শাকসবজি ও ফল।
  • ভারী ও পুষ্টিহীন খাবার এড়িয়ে চলুন: যেমন—দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, ভাজা, প্রসেসড ও প্যাকেটজাত খাবার।
  • সময়মতো খান: নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেলে শরীর ভালোভাবে হজম করতে পারে।
  • ক্যালোরি গোণা বন্ধ করুন: প্রতিটি খাবারের ক্যালোরি গোণা বা ক্ষুধা দমন করা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে। বরং পুষ্টিকর ও তৃপ্তিদায়ক খাবার খান।
  • মনোযোগ দিয়ে খান: তাড়াহুড়ো করে বা কাজ করতে করতে খাবেন না। ধীরে ধীরে চিবিয়ে (প্রায় ৩২ বার) খাবার খান।
  • গরম জল পান করুন: সারাদিন অল্প অল্প করে গরম জল পান করলে হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের হয়।
  • আগের খাবার হজম হতে দিন: একবার খাওয়ার পর অন্তত ৪ ঘণ্টা বিরতি দিন।
  • উপবাস করুন: উপবাস করলে শরীরের হজমশক্তি টক্সিন দূর করতে কাজে লাগে। প্রতি ১৫ দিনে একবার উপবাস করা ভালো। দৈনিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংও ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আয়ুর্বেদিক শোধন

আয়ুর্বেদিক ডিটক্সের মাধ্যমে ওজন কমানো একটি বিকল্প হলেও খুবই কার্যকর পদ্ধতি। মাত্র এক সপ্তাহের ডিটক্স থেরাপির মাধ্যমে ৫–৬ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব। তবে সর্বোত্তম ফল পেতে একজন যোগ্য আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে এই থেরাপি করা উচিত।  ওজন কমানোর জন্য কিছু কার্যকর ডিটক্স থেরাপি হল:

  • বিরেচন (Virechana): এটি মলদ্বারের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করার একটি ডিটক্স পদ্ধতি।
  • অভ্যঙ্গ ও স্টিম বাথ: অভ্যঙ্গ হলো ঔষধি তেল দিয়ে শরীরের ম্যাসাজ। স্টিম বাথের মাধ্যমে বন্ধ ঘরে শরীরকে বাষ্পে রাখা হয়।
  • উদ্বর্তন: এটি তেল নয়, ভেষজ গুঁড়ো (চূর্ণ) দিয়ে করা একটি সম্পূর্ণ শরীরের থেরাপিউটিক ম্যাসাজ। এটি লিম্ফ্যাটিক ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী ডিটক্স থেরাপি।

শরীরের গঠন অনুযায়ী একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তার উপযুক্ত ওজন কমানোর থেরাপি পরামর্শ দিতে পারেন।

তথ্যসূত্র: পুজা ভেঙ্কটগোপাল, ফ্যাকাল্টি, শ্রী শ্রী যোগা

লেখক: বন্দিতা কোঠারি

    Wait!

    Don't leave without a smile

    Talk to our experts and learn more about Sudarshan Kriya

    Reverse lifestyle diseases | Reduce stress & anxiety | Raise the ‘prana’ (subtle life force) level to be happy | Boost immunity

     
    *
    *
    *
    *
    *