গৌশালা ময়দান, যোধপুর, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, জবলপুর এবং প্রহ্লাদ নগর গার্ডেন, আহমেদাবাদ—এই জায়গাগুলোর কথা আমার খুব মনে পড়ে । জানেন কেন? এগুলো সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটার জন্য একেবারে উপযুক্ত জায়গা, বিশেষ করে যদি আপনার লক্ষ্য ওজন কমানো হয়। এখানে ১ কিলোমিটার হাঁটার দূরত্ব নির্দেশ করতে চিহ্ণ দেওয়া থাকে যা আপনাকে পর্যাপ্ত হাঁটার জন্য উৎসাহ দেয়। যানবাহন বা রাস্তায় গর্ত নেই, আর আশেপাশে এমন মানুষ থাকেন যারা একই লক্ষ্য নিয়ে হাঁটেন এবং তা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে।

আমি ওজন কমানোর জন্য শ্রী শ্রী তত্ত্বের নাড়ি বৈদ‍্য ডাঃ মানস পরিহারের পরামর্শ নিয়েছিলাম। চিকিৎসার সময় তিনি হাঁটাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কিছু হাঁটার টিপস দিয়েছিলেন, যা খুবই কার্যকর ছিল। আমি অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে আরও কিছু হাঁটার কৌশল অনুসরণ করি ।

হাঁটা কি ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট?

আমার নিজের অভিজ্ঞতায় হাঁটার মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব, কিন্তু শুধুমাত্র হাঁটা যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি হাঁটেন কিন্তু সারাদিন বসে থাকেন বা সঠিক পুষ্টিকর খাবার না খান, তাহলে তার খারাপ প্রভাব আপনার স্বাস্থ্যের উপর পড়বে। আমি জাঙ্ক ফুড বাদ দিয়ে বেশি ফল খাওয়া শুরু করি। আরও ভালো করে এবং ধারাবাহিকভাবে ওজন কমানোর জন্য হাঁটার সাথে এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চলি।

  • আমি খেয়াল রাখতাম যেন অতিরিক্ত খাবার না খাই। আমার মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ছিল, তাই আমি দুপুরে মিষ্টি খেতাম—কারণ এই সময় হজম ভালো হয়।
  • দাঁড়িয়ে করা যোগাসনগুলো আমি নিয়মিত অভ্যাস করতাম- এতে আমার পায়ের পেশীগুলোকে শক্ত রাখত, যাতে দ্রুত হাঁটার সময় টান না ধরে । এগুলো আমার হ্যামস্ট্রিং, কাফ মাসল এবং উরুর সামনের দিকের পেশিগুলোকে সচল ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করত।
  • সারাদিন শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকা খুব জরুরি—এতে সহনশক্তি বাড়ে এবং হৃদ্‌স্পন্দন ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • নিজের খাবারের অভ্যাস লক্ষ্য করুন। আমি সন্ধ্যার পর কম শর্করাজাতীয় খেতাম, এতে সকালে সতেজ লাগত।
  • একঘেয়েমি কাটাতে আমি হাঁটা ও দৌড় দুটো মিলিয়ে করতাম।

ওজন কমানোর জন্য ১৫টি হাঁটার টিপস ও কৌশল

আপনি যত বেশি হাঁটবেন এবং যত দ্রুত হাঁটবেন, তত বেশি ক্যালোরি পোড়াবেন। ওজন কমানোর জন্য এখানে ১৫টি হাঁটার টিপস ও কৌশল দেওয়া হলো

  • হাঁটার একমাত্র প্রয়োজনীয় সরঞ্জামটার জন্য বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগ করুন – হাঁটার জন্য আরামদায়ক, কুশনযুক্ত ও হালকা জুতো বেছে নিন, যার সোল নমনীয় এবং হিল মজবুত।
  • এমন একটি উপযুক্ত জায়গা বেছে নিন যেখানে আপনি প্রতিদিন হাঁটতে পারেন এবং একঘেয়েমি অনুভব করবেন না। নিজেকে সতেজ রাখতে মাঝে মাঝে হাঁটার পথ পরিবর্তন করুন।
  • নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন— আমি সংস্কৃত পণ্ডিত এবং আমার প্রতিবেশী বন্ধু ডাঃ সুমনলতা শ্রীবাস্তবের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়মিত হাঁটা শুরু করি। বৃষ্টিও তাকে হাঁটা থেকে থামাতে পারেনি। তিনি ছাতা নিয়ে হাঁটতেন এবং কোনো দিন যেন বাদ না যায়, তার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন।
  • খাওয়ার পর হাঁটুন – আমার ডাক্তার যখন খাওয়ার পর হাঁটার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন আমি অবাক হয়েছিলাম। গবেষণায় বলা হয়েছে, “যাঁদের খাওয়ার ঠিক পরেই হাঁটলে পেটে ব্যথা, ক্লান্তি বা অন্য কোনো অস্বস্তি হয় না, তাঁরা দুপুরের ও রাতের খাবার খাওয়ার পর  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে বেশি ওজন কমাতে পারেন। খাওয়ার এক ঘণ্টা পরে ৩০ মিনিট হাঁটার তুলনায় এটি বেশি কার্যকর।
  • আরও বেশি হাঁটুন এবং কম বসে থাকুন – একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে গড়ে ৫,০০০ পদক্ষেপের কম হাঁটা এড়ানো উচিত এবং কমপক্ষে ৭,৫০০ পদক্ষেপ হাঁটার লক্ষ্য রাখা উচিত। এর মধ্যে অন্তত ৩,০০০ পদক্ষেপ (প্রায় ৩০ মিনিট) প্রতি মিনিটে ১০০ বা তার বেশি গতিতে হাঁটা উচিত। ভালো ফল পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা বা নড়াচড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  • সাউন্ডট্র্যাক, অডিওবুক বা পডকাস্ট শুনুন- এটা আপনাকে আরও বেশি চেষ্টা করতে এবং আরও দূর পর্যন্ত হাঁটতে অনুপ্রাণিত করে।
  • ফিটনেস ট্র্যাকার বা পেডোমিটার ব্যবহার করুন- প্রতিদিন কত পদক্ষেপ হাঁটছেন তার অগ্রগতির হিসাব করার এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায়।
  • চড়াই পথে হাঁটা এবং ওজন ব্যবহার করা – এটা শুধু ওজন কমাতে সাহায্য করে না, বরং আপনার পেশিগুলোকেও শক্তিশালী করে একটি ফলপ্রসূ ব্যায়ামের অভিজ্ঞতা দেয়।
  • সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং হাত দোলানো ওজন কমাতে সাহায্য করে, কারণ এতে আপনি আপনার উপরের শরীরের ব্যায়ামও করেন।
  • প্রকৃতির মাঝে হাঁটুন, ট্রেডমিলে না হেঁটে ।
  • দিনের আলোতে হাঁটুন, যাতে আপনার দৈনিক ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ হয় এবং দ্রুত গতির হাঁটা আরও কার্যকর হয়।
  • একজন হাঁটার সঙ্গী আপনার হাঁটার গতি দ্রুত বা ধীর হওয়ার কারণ হতে পারে। এমন সঙ্গীর সাথে হাঁটুন, যিনি আপনার ওজন কমানোর লক্ষ্যকে সমর্থন করেন ।
  • পেছনের দিকে হাঁটার অনুশীলন করুন— পেছনের দিকে হাঁটার গতি ধীর হলেও এটি পেশি ও হাঁটুর জন্য বেশ নিবিড় অনুশীলন হতে পারে।
  • লম্বা পদক্ষেপের পরিবর্তে দ্রুত পদক্ষেপে হাঁটুন— এতে পা ও পায়ের পেশির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ার আশঙ্কা কমে।
  • শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেবেন না— হাঁটার আগে, হাঁটার সময় এবং হাঁটা শেষ হওয়ার পরে পর্যাপ্ত জল পান করুন।

ডাঃ মনস পারিহার, বৈদ্য, শ্রী শ্রী তত্ত্বের পরামর্শ অনুযায়ী

লিখেছেন: প্রতিভা শর্মা

    Wait!

    Don't leave without a smile

    Talk to our experts and learn more about Sudarshan Kriya

    Reverse lifestyle diseases | Reduce stress & anxiety | Raise the ‘prana’ (subtle life force) level to be happy | Boost immunity

     
    *
    *
    *
    *
    *