আপনি কাদের ওপর রাগ করেন? মানুষ, ঘটনা, না পরিস্থিতি? কোনো জড়বস্তুর ওপর আপনি রাগ করতে পারেন না। তাই আপনার রাগ মূলত মানুষ বা পরিস্থিতির দিকেই যায়। সেই মানুষদের মধ্যে আপনিও আছেন — হয় আপনি নিজের ওপর রাগ করেন, নয়তো অন্য কারও ওপর।

আপনি রাগ অনুভব করেন কোনো দুর্বলতার কারণে। যখন আপনি কিছু করতে চান কিন্তু তা করতে সক্ষম হন না, তখন সেই অক্ষমতাই আপনার মধ্যে রাগ সৃষ্টি করে।

যখন আপনি সক্ষম ও শক্তিশালী হন, তখন কেন রাগ করবেন? আপনি কখনও একটি পিঁপড়ে বা মাছির ওপর রাগ করেন না। আপনি সাধারণত নিজের থেকে দুর্বল কারও ওপরও রাগ করেন না। আমরা সাধারণত তাদের ওপর রাগ করি, যারা আমাদের থেকে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী। যখন আমরা এমন কিছু দেখি বা অনুভব করি যা আমাদের দক্ষতা বা সামর্থ্যের বাইরে, তখন রাগ হয়। যখন আমরা মনে করি কেউ আমাদের কথা মানছে না, তখনও রাগ জন্মায়। রাগ তখনই আসে, যখন আমরা ভাবি আমাদের কথার গুরুত্ব আমাদের নিজের থেকেও বেশি। তাই রাগ উঠলে তা কষ্টের কারণ হয়।

রাগ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

কথা ও কাজ সঠিক না হলে সেটা প্রায়ই রাগের কারণ হয়ে ওঠে। কাজে একশ ভাগ ঠিক হওয়া প্রায় অসম্ভব; সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ নিখুঁত হওয়া সম্ভব। তবে মনে ও কথায় শতভাগ পরিপূর্ণতা সম্ভব।

আপনি কত ঘন ঘন রাগ করেন? আপনার বার বার রাগ করার প্রবনতার অনুপাত আপনার শক্তির বিপরীত। আপনি যত বেশি শক্তিশালী, তত কম রাগপ্রবণ; আর যত বেশি দুর্বল, তত বেশি রাগপ্রবণ।  এই বিষয়টি নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে — আপনার শক্তি কোথায় গেল ? কেন আপনি তা হারাচ্ছেন?

দ্বিতীয় বিষয় হলো আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন ও আশেপাশের মানুষদের সম্পর্কে আপনার গভীর উপলব্ধি। এটির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় বিষয় হলো আসক্তি — আসক্তি রাগকে উসকে দেয়। আপনি যা চান, তার প্রতি আসক্তির মাত্রাই রাগের মাত্রা নির্ধারণ করে। তাই আপনার রাগের পেছনে থাকে কোনো না কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা। এটি আপনাকে বুঝতে হবে। যদি তা আপনার আরাম, ইচ্ছা বা অহংকারের জন্য হয়, তবে আপনার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হবে। যদি আপনার রাগ করুণা থেকে আসে, যদি আপনার রাগের উদ্দেশ্য হয় কোনো কিছু ঠিক করে দেওয়া, তাহলে তা আলাদা। এই ধরনের রাগ খারাপ অনুভূতি নয়।

বারবার রাগ করবার মনে শেষ করা

মানুষ ঝগড়া করে কারণ তারা মনে করে তারা সঠিক। এই ‘আমি ঠিক’ ভাবনাই তাদের লড়াই করার শক্তি দেয়। যদি কেউ মনে করে সে ভুল, তবে তার লড়াই করার শক্তি থাকে না।

এই সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ ন্যায়বোধ পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীর সব যুদ্ধ এই কারণেই হয়েছে।

যদি আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করি এবং নিরপেক্ষভাবে সত্যকে দেখি, তবে ভিন্ন এক ছবি দেখতে পাব।

আমাদের ন্যায়বোধ আসলে একটি মানসিক ধারণা; এর বাইরেও রয়েছে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত ও মূল কারণ। সেই প্রকৃত ও চূড়ান্ত কারণকে বোঝাই হলো প্রজ্ঞা।

এই চক্র ভাঙার জন্য কিছু পরামর্শ:

1. রাগী মানুষকে আতশবাজির মতো ভাবুন

একজন রাগী মানুষকে আতশবাজির মতো দেখুন। দীপাবলিতে আমরা আতশবাজি জ্বালাই, তারপর একটু দূরে সরে গিয়ে তা উপভোগ করি। কিছু সময় পরে তা নিজে থেকেই নিভে যায়। রাগী মানুষও তেমনই।

কিন্তু আমরা ঘরের ভেতরে আতশবাজি জ্বালাই না বা তার কাছে মূল্যবান কিছু রাখি না। তাই খেয়াল রাখুন, রাগী মানুষের আশেপাশে যেন আপনার মূল্যবান জিনিস না থাকে যা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাগী মানুষ না থাকলে পৃথিবীটা একঘেয়ে হয়ে যেত! তাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন এবং দূর থেকে দেখুন। জড়িয়ে পড়বেন না — তাহলেই আপনি আনন্দ পাবেন।

2. সচেতন থেকে রাগকে জয় করুন

যখন আপনি রাগ অনুভব করেন কিন্তু প্রকাশ করেন না, তখন আপনি ভেতরে দমবন্ধ অবস্থা অনুভব করেন। আবার যখন প্রকাশ করেন, তখন অপরাধবোধ হয়। তাই মূল চাবিকাঠি হলো — এই দুটির ঊর্ধ্বে ওঠা। জীবনকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন।

আপনার অনুভূতিগুলোকে একটি সাজসজ্জার মতো দেখুন — যেমন বিভিন্ন রঙ ও নকশার কেকের ওপরের আইসিং। এই সাজসজ্জা কেকের মূল উপাদানের জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তেমনই, এই আবেগগুলো যেন আপনাকে বেঁধে না ফেলে বা অপরাধবোধে না ভোগায়। আপনি যখন সচেতনতায় বৃদ্ধি পাবেন, তখনই এটি সম্ভব হবে।

নবরাত্রির সময় যাতে মন ভক্তির তরঙ্গে ডুবে যায়  তাই আমরা সৎসঙ্গ করি আর  নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণ করি । এভাবে আমরা রাগ ও অন্যান্য দোষের সব সুযোগ এড়িয়ে চলি।

3. আক্রমণাত্মক মনোভাব সামলাতে শক্তি ব্যবহার করুন

আপনার মধ্যে আক্রমণাত্মক ভাব কেন আসে? যখন আপনি মনে করেন কেউ আপনার থেকে বড় বা শক্তিশালী, তখন আপনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন — ঠিক তো? ভেবে দেখুন। কেউ যদি সত্যিই আপনার থেকে অনেক বড় হয়, বা একেবারেই তুচ্ছ হয়, তখন আপনি আক্রমণাত্মক হন না। কিন্তু যখন আপনি মনে করেন কেউ আপনার সমান, বা সামান্য বড় কিংবা ছোট, তখনই আক্রমণাত্মক মনোভাব আসে। এর কারণ হলো — নিজের শক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা। জেগে উঠুন এবং দেখুন আপনি কে, আর কাদের সঙ্গে আপনি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন।

আপনি যখন একটি মশা মারতে চান, তখন আক্রমণাত্মক হন না! কারণ আপনি জানেন এটি শুধুই একটি মশা, এর তেমন গুরুত্ব নেই। তেমনই, নিজের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হোন।

4. সামান্য ত্রুটিবিচ্যুতি মনের জন্য ভালো

সবকিছু অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা মনের মধ্যে রাগ ও হিংসা নিয়ে আসে। তখন অপূর্ণতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও কখনও, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। সেই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

অসম্পূর্ণতার জন্য একটু জায়গা দিন; এটি প্রয়োজনীয়। এটি আপনাকে আরও ধৈর্যশীল করবে। ধৈর্য বাড়লে রাগ কমবে, আর রাগ কমলে হিংসা থাকবে না।

5. ভালোবাসাকে জ্ঞানের সুরক্ষা দিন

আপনি যাকে ভালোবাসেন, সে যদি আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তখন আপনি কষ্ট পান। কারণ, রাস্তায় হেঁটে যাওয়া কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কারণে তো আপনি কষ্ট পান না! কিন্তু যাকে আপনি ভালোবাসেন বা যার সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা আছে, সে যদি আপনাকে অভিবাদন না জানায় বা হাসিমুখে কথা না বলে, তখনই আপনি আহত হন।

যখন মানুষ কষ্ট পায়, তখন তারা নিজেদের গুটিয়ে নেয়, কঠোর হৃদয়ের হয়ে যায় এবং নিষ্ঠুর আচরণ করতে শুরু করে।

ভালোবাসা খুব সূক্ষ্ম ও কোমল একটি অনুভূতি; এটি খুব সহজেই আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং দ্রুত ঘৃণা, রাগ, দোষারোপ, ক্ষোভ, তিক্ততা বা হিংসায় পরিণত হতে পারে।

আমাদের সমাজে এই কোমল অনুভূতিটিকে বিকৃত হওয়া থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়? এই প্রশ্নের  উত্তর  হল জ্ঞান। ভালবাসাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জ্ঞানই সঠিক ঢাল। জ্ঞান ভালোবাসার পবিত্রতা বজায় রাখে এবং তাকে সব ধরনের বিকার থেকে দূরে রাখে। সাধু-সন্তদের ভালোবাসা সবসময়ই পবিত্র , কারণ তা জ্ঞানের ঢালে সুরক্ষিত।

এছাড়া, যখন আপনি গভীর সাধনায় প্রবেশ করেন, তখন আপনি খুব সূক্ষ্ম স্তরে ভালোবাসার অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারেন।

অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার জন্য রাগ করা বোকামির লক্ষণ। আপনি বর্তমানে কোনো ঘটনার জন্য রাগ করেন। কিন্তু রাগের উত্তরে আবার রাগ দেখানো—এ কেমন বোকামি! কেউ যদি বারবার ভুল করে, তখন আপনি রাগ প্রদর্শন করতে পারেন, কিন্তু সেই ক্রোধে যেন ভেসে যাবেন না।
আরোগ্যবর্ধক রাগ – এ হলো সেই সুস্থ রাগ, যা জলের ওপর আঁকা একটি দাগ যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণই থাকে। এর অর্থ এই নয় যে কেউ ভুল করলে আপনি রাগ দেখাবেন না; কিন্তু সেই রাগে নিজেকে হারিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সাধনা আপনার মনকে সেই সব বিকার   থেকে রক্ষা করে, যা আপনাকে আপনার স্বরূপ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

কখন রাগ  করা ভালো ও প্রয়োজনীয়

কখনও কখনও কিছুটা রাগ প্রদর্শন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কেবল দেখানোর জন্য ব্যবহৃত রাগ একটি অস্ত্রের মতো ব্যবহার করা উচিত। অর্থাৎ আপনি রাগ দেখালেন, কিন্তু ভেতর থেকে শান্ত ও অটল থাকলেন। এভাবে রাগ প্রদর্শন করলে আপনার রক্তচাপ বাড়বে না, আপনি অস্থির বা উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না।
একজন মা প্রায়ই তার সন্তানকে কোনো না কোনো কারণে বকাঝকা করেন, কিন্তু একই সময়ে স্বামীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। তিনি কাউকে রাগ করে বকতে পারেন, আবার অন্য কারও সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে হাসতেও পারেন। কিন্তু এই রাগ তাকে কষ্ট দেয় না বা মাথাব্যথার কারণ হয় না। এটি তার ঘুম নষ্ট করে না। তাই শুধুমাত্র কার্য উদ্ধার  করবার জন্য রাগ দেখানোর দরকার  হলে সেই রাগ ঠিক।
কারও মঙ্গলের জন্য রাগ করা ঠিক আছে, কিন্তু নিজের স্বার্থপর উদ্দেশ্যে রাগ করা ঠিক নয়। তা কেবল আপনাকেই ক্ষতি করবে। কেউ আপনাকে অপমান করেছে বলে রাগ করলে তাতে শুধু আপনারই ক্ষতি হয়, অন্য কারও নয়।
কিন্তু কাউকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রাগ করা আসলে উপকারী।

যে রাগ ‘আমি’, ‘আমার’, বা ‘আমাকে’ কেন্দ্র করে জন্মায়, সেটাই কষ্ট ও হতাশার কারণ হয়। কিন্তু যখন আপনি বুঝতে পারেন যে কেউ তার আচরণে বোকামি করছে এবং তাকে ঠিক পথে আনতে আপনি রাগ দেখান, তখন সেই রাগ আসলে উপকারী।

অতীতের চেপে রাখা রাগ

রাগ আলাদা কোনো শক্তি নয়। এটি একই শক্তি, যা কখনও রাগ হিসেবে, কখনও করুণা হিসেবে; কখনও ভালোবাসা, কখনও উদারতা হিসেবে প্রকাশ পায়। এটি দুটি ভিন্ন শক্তি নয়—একই শক্তি বিভিন্ন রূপ বা রঙ ধারণ করে। যেমন একই বিদ্যুৎ ফ্রিজ, আলো ও পাখা চালাতে ব্যবহৃত হয়।

নিজেকে কখনও ভাবতে দেবেন না যে আপনি রাগ চেপে রেখেছেন। আপনার জ্ঞান যখন বৃদ্ধি পাবে এবং সত্য ও বাস্তবতার দিকে আপনার দৃষ্টি খুলে যাবে, তখন বুঝবেন যে অতীতের রাগ আসলে আপনার অজ্ঞতা ও বোকামির ফল ছিল।

রাগ সামলানোর বিচক্ষণ উপায়

আপনি যদি রাগ প্রকাশ করেন, তাহলে অপরাধবোধ হয়। আর প্রকাশ না করলে মনে হয় রাগ চেপে রেখেছেন। এই দুটির ঊর্ধ্বে উঠতে হলে জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে—একটি বিশাল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।

আপনি যদি আপনার জীবনের প্রেক্ষাপট বদলে দেন, তাহলে জীবনকে আর সংগ্রাম মনে হবে না। তখন বুঝবেন, এই আবেগগুলো আসলে আপনাকে বেঁধে রাখে না, অপরাধবোধ বা দমবন্ধ অনুভূতি দেয় না। এগুলো কেবলমাত্র সাজসজ্জা। সাজসজ্জা আসলে ভেতরের মূল সত্তার জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি যেন কেকের আইসিংয়ের ওপর বিভিন্ন রঙের নকশা করা।

পুরাণের একটি দৃষ্টান্ত

হিন্দু পুরাণে ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে রাগের একটি কাহিনী আছে। মধু ও কৈটভ নামে দুই অসুর ভগবান বিষ্ণুর কানের ময়লা থেকে জন্ম নিয়ে তাঁকে বিরক্ত করছিল। ‘মধু’ মানে রাগ এবং ‘কৈটভ’ মানে ঘৃণা। ভগবান বিষ্ণু হাজার বছর যুদ্ধ করেও তাদের পরাজিত করতে পারেননি।

তখন তিনি দেবীকে আহ্বান করলেন—দিব্য চেতনা। যখন চেতনার উদয় হয়, তখন রাগ ও ঘৃণা বিলীন হয়ে যায়। জলের সাহায্যে দেবী মধু ও কৈটভকে ধ্বংস করলেন। এখানে জল ‘ভালোবাসা’র প্রতীক।

অর্থাৎ ভালোবাসার সাহায্যে চেতনা রাগ ও ঘৃণাকে নাশ করল। যখন চেতনা ভালোবাসায় পূর্ণ হয়, তখন রাগ বা ঘৃণা কিছুই অবশিষ্ট থাকে না—শুধু চিরন্তন প্রেম থাকে।

চেতনা কীভাবে বাড়াবেন?

রাগের এক প্রকার হলো—যা সম্পূর্ণ সচেতনতার সঙ্গে প্রকাশিত হয়। আরেক প্রকার হলো—যা অসচেতনভাবে ও অজ্ঞতা থেকে জন্মায়।

তাই যখন আপনার মধ্যে রাগ উঠতে শুরু করে, তার ঠিক আগে শরীরে কিছু অনুভূতি টের পাওয়া যায়—যেমন মাথার ওপর হালকা ঝিনঝিনে অনুভূতি, কপাল বা মাথার পেছনে চাপ, অথবা ঘাড় ও কাঁধের অংশে শক্ত হয়ে যাওয়া। সেই মুহূর্তে এই অনুভূতিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারা একটি দক্ষতা। যখন আপনি এই অনুভূতিগুলো লক্ষ্য করার অভ্যাস গড়ে তুলবেন, তখন খুব সহজেই রাগকে জয় করতে পারবেন। এই কারণেই ধ্যান এত গুরুত্বপূর্ণ। ধ্যান ছাড়া রাগকে সত্যিকার অর্থে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

ধ্যানের কার্যপ্রণালী

আগে যখন আপনি রাগ করতেন, তা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হতো। যদি আপনি সম্প্রতি ধ্যান শুরু করে থাকেন, তাহলে লক্ষ্য করেছেন—রাগ এখনও আসে, কিন্তু খুব দ্রুতই শান্ত হয়ে যায়। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রাগ চলে যায়। যদি তা হয়, তবে এটিকে ইতিবাচক দিকের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখুন।

ধ্যানের প্রভাব

আগে ,যখন আপনি ধ্যান করতেন না, তখন রাগ এলে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস—এমনকি কখনও এক বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতো। কিন্তু এখন আপনি নিয়মিত ধ্যান শুরু করার পর রাগ বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

কেন এমন হয়?

কারণ রাগ উঠতেই আপনার মনোযোগ শ্বাসের দিকে চলে যায়, এবং আপনি নিজের শ্বাসের প্রতি সচেতন হয়ে ওঠেন। এই সচেতনতা আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

অতীতে করা ধ্যানের অভিজ্ঞতা আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে শান্ত ও স্থির অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং রাগকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয়।

আপনি যেকোনো ধ্যানই করুন না কেন, তা কখনও বৃথা যায় না।

    Wait!

    Don't leave without a smile

    Talk to our experts and learn more about Sudarshan Kriya

    Reverse lifestyle diseases | Reduce stress & anxiety | Raise the ‘prana’ (subtle life force) level to be happy | Boost immunity

     
    *
    *
    *
    *
    *